• রবিবার     ২১ অক্টোবর, ২০১৮  

      ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ঢাকা

    সফলতা ও উন্নয়নে দরকার সঠিক তথ্য

    বি আওয়ার ফ্রেন্ডস

    ঐক্যের জন্য ছাড় দিতে হবে: ফখরুল

    ঐক্যের জন্য ছাড় দিতে হবে: ফখরুল

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৩:৪৪ অপরাহ্ণ

    আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বড় রাজনৈতিক ঐক্য গড়তে ছাড় দিতে বিএনপি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    তিনি বলেছেন, “আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে, গ্রেটার ইউনিটি কখনোই হবে না, যদি না আমরা কিছু না কিছু ত্যাগ স্বীকার করি। ওই সব ছাড় দিয়ে আমাদেরকে আজকে একটা না একটা জায়গায় আসতে হবে।

    “আমরা সেই চেষ্টাই করছি। গোটা দেশ এটাই চায়। অন্যান্য যারা আছেন, তারাও বোঝেন, এটা ছাড়া কোনো মুক্তি নেই।”

    শনিবার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে ‘রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের করণীয়’ শীর্ষক সভায় একথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

    আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশ গণতন্ত্রহীন হয়ে পড়েছে দাবি করে এ থেকে উত্তরণে ‘জাতীয় ঐক্য’ গড়ে আন্দোলনের কথা বলে আসছে বিএনপি।

    চারদলীয় জোট থেকে এখন ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি। এই জোটের পরিসর আরও বাড়াতে বিএনপি আগ্রহী হলেও তাদের জোট শরিক জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে আপত্তি রয়েছে অনেকের।

    খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে যে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন, তা অনুসরণ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান ফখরুল।

    তিনি বলেন, “আমরা তার নির্দেশ অনুযায়ী শান্তিময় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অন্যান্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে একটা জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। প্রক্রিয়া চলছে, আমরা বিশ্বাস করি এটাতে আমরা সফল হব।

    “আমরা বিশ্বাস করি, অতি দ্রুত জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সমগ্র জাতি এই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতিকে মুক্ত করবার জন্য, গণতন্ত্রকে মুক্ত করবার জন্য এবং দেশনেত্রীকে মুক্ত করবার জন্য আন্দোলন করবে।”

    খালেদা জিয়ার বিচারে কারাগারে আদালতে বসানোর সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “ছোট একটা ঘরের মধ্যে ক্যামেরা ট্রায়াল করা হচ্ছে, সেখান ট্রায়াল হচ্ছে একে বাংলায় বলা যায় গুহা ….. ।

    “প্রধানমন্ত্রী না কি বলেছেন, জিয়াউর রহমান এই ধরনের বিচার করেছিলেন। জিয়াউর রহমান সাহেবের সেই ধরনের বিচার করেনি। বিচারটা হয়েছিলো মার্শাল ল’র অধীনে। বিচারপতি আবু সাদাত মো. সায়েম ওই সময়ে প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ছিলেন। সুতরাং মানুষকে বিভ্রান্ত করে ভুল বোঝানো চলবে না।”

    ‘ঘটনা ছাড়াই আলামত’

    সারাদেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাজানো মামলায় তাদের আটক করা হচ্ছে।

    “যে মামলা হচ্ছে, সেগুলোর একই রকম কথা। মনে হয় যেন ফরমেট তৈরি করে দিয়েছে, সেই ফরমেটে এফআইআরগুলো তৈরি করা হয়েছে। তারা নিজেরাই কিছু ককটেল-টকটেল ফুটাচ্ছেন, ফুটিয়ে সব কিছুর অবশিষ্টাংশ সেটাকে নিচ্ছেন, রাস্তা থেকে কয়েকটা পাথর কুড়িয়ে নিচ্ছেন, কয়েকটা লাঠি আনছেন, বলছেন আলামত পাওয়া গেছে। আসলে সেখানে কোনো ঘটনাই ঘটেনি।”

    “এই যে একটা ভয়াবহ মিথ্যাচারের মধ্য দিয়ে গোটা জাতিকে জিম্মি করা হচ্ছে শুধু তার ও তার দলের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য,” বলেন ফখরুল।

    তিনি বলেন, “একটা ভয়াবহ দানবের হাতে এই দেশ পড়েছে, একটা ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এখান থেকে আমাদেরকেই বেরিয়ে আসতে হবে। কেউ আমাদের সাহায্য করবে না। আমাদেরকেই আমাদের শক্তিতে বেরিয়ে আসতে হবে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের পরাজিত করতে হবে।

    “আমি বলতে চাই, এই সরকার টিকতে পারে না। কারণ তারা জনগণ থেকে অনেক দূরে চলে গেছে এবং জনগণের মধ্যে তাদের কোনো অবস্থান নেই। আমি আপনাদের জোরের সঙ্গে বলতে পারি যে, এদের পতন আসন্ন বলেই আজকে এরা পাগল হয়ে গেছে, রাজনৈতিকভাবে তারা দেউলিয়া হয়ে গেছে। ইনশাল্লাহ বিজয় আমাদের হবেই।”

    মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি ভাইস চেয়ার‌ম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদীন, মুক্তিযোদ্ধা দলের আজিজুল হক লেবু কাজী, এম এ বারী, আবদুল হালিম মিঞা, সাদেকুর রহমান বাবুল, হাজী মনসুর আলী সরকার, নুরে আলম তরফদার, মোকসেদ আলী মঙ্গলীয়া, আবু তালেব চৌধুরী, কামালউদ্দিন, নুরুল আমিন বক্তব্য রাখেন।

  • আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
    শিক্ষাব্যবস্থায় সিঙ্গাপুরে নীরব বিপ্লব
    শিক্ষাব্যবস্থায় সিঙ্গাপুরে নীরব বিপ্লব