• রবিবার     ২১ অক্টোবর, ২০১৮  

      ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ঢাকা

    সফলতা ও উন্নয়নে দরকার সঠিক তথ্য

    বি আওয়ার ফ্রেন্ডস

    শিক্ষাব্যবস্থায় সিঙ্গাপুরে নীরব বিপ্লব

    সিঙ্গাপুরের নামকরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (সিম)। ছবি: রয়টার্স

    বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ তালিকা

    শিক্ষাব্যবস্থায় সিঙ্গাপুরে নীরব বিপ্লব

    নাজনীন আখতার | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ২:৪১ অপরাহ্ণ

    ‘ধর তক্তা, মার পেরেক’—প্রবাদবাক্যটি শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে মেলে কি না, তা আলোচনাসাপেক্ষ। তবে শিক্ষার্থীদের ওপর ওজনদার শিক্ষাব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়াকে অনেকে এভাবেই তুলনা করতে ভালোবাসেন। এখানে অভিভাবকদের ‘উৎসাহে’ শিক্ষার্থীদের ‘তক্তা’ বানানোর কাজটি করেন শিক্ষকেরা। শিক্ষার্থীরা যেন পড়ার টেবিল থেকে উঠে ‘অন্য কিছুতে’ মনোযোগ দিতে না পারে, সে চেষ্টার কোনো কমতি থাকে না। শিশু অবস্থা কাটিয়ে ওঠামাত্র শুরু হয় এই প্রক্রিয়া। লক্ষ্য একটাই, আকর্ষণীয় চাকরি ধরতে উপযোগী করে তোলা। চাকরির বাজারে যোগ্য প্রার্থী হওয়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি ‘অতিরিক্ত শিক্ষা’ নিতে হয়। দৌড়াতে হয় এক শিক্ষক থেকে আরেক শিক্ষকের কাছে। অনেকে তাই এই শিক্ষাব্যবস্থাকে আরেকটি শব্দেও ব্যাখ্যা করতে পছন্দ করেন, তা হচ্ছে ‘প্রেশারকুকার’।

    এতটুকু পড়ে যাঁরা বাংলাদেশের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন, তাঁরা শুনে অবাক হবেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই শিক্ষাব্যবস্থার এই হাল। ভালো চাকরির বাজার সব দেশেই সংকুচিত। তাই ভালো চাকরি পেতে দিন-রাত পড়াশোনার পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত হয়ে যান শিক্ষার্থীরা। ভবিষ্যতের জীবন গড়তে সবচেয়ে বেশি চাপের শিকার হয় স্কুলশিক্ষার্থীরা। তবে এই অবস্থার মধ্যেও কোনো কোনো দেশ শিক্ষাব্যবস্থায় নানান সংস্কার এনে সুনাম কুড়িয়েছে। সেরা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থায় নানান সংস্কার এনে আলোচনায় রয়েছে—এমনই একটি দেশ সিঙ্গাপুর।

    ইকোনমিস্ট সাময়িকীর সাম্প্রতিক সংখ্যায় শিক্ষাব্যবস্থায় সিঙ্গাপুরের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের ওপর ‘অতিরিক্ত’ চাপ দেওয়ার রীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে সিঙ্গাপুর। পশ্চিমা বিশ্বের অজান্তে সিঙ্গাপুরের শিক্ষাব্যবস্থায় নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে। শুধু পড়াশোনা নয়, শিক্ষার মাধ্যমে একজন মানবিক মানুষ গড়ে তুলতে ব্যাপক সংস্কার আনা হয়েছে। তিনটি বিষয় তুলে ধরে এতে বলা হয়, সিঙ্গাপুরের কাছে বিশ্বের শেখার আছে। ওই নিবন্ধে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য অভিভাবক ও শিক্ষকদের অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার বিষয়টিও তুলে আনা হয়েছে। চীনের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, চীনে লেখাপড়া মানেই ‘তুমি শুধু দিন-রাত পড়ে যাও’।

    বাংলাদেশের কথাই যদি ধরা যায়, এখানে একজন স্কুলশিক্ষার্থীকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পড়ার চাপে থাকতে হয়। রাজধানীর কল্যাণপুরের বাসিন্দা মাহমুদা আক্তার জানান, তাঁর ছোট ছেলে রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি মিডিয়ামে নবম শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলে ভালো পড়ানোর পরও এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে তিনি কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। তাঁর ছেলে পাঁচজন শিক্ষকের কাছে ব্যাচে পড়ে এখন। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও গণিতে আরও ভালো ফলের জন্য এই বাড়তি টিউশন নিচ্ছে। এ ছাড়া বাংলায় দুর্বলতা থাকায় বাংলা বিষয়েও আলাদা শিক্ষক রেখেছেন। বাংলায় এক হাজার টাকা এবং বাকি চারটি বিষয়ে দেড় হাজার টাকা করে ব্যাচে পড়তে হয় তাঁর ছেলেকে।

  • আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
    শিক্ষাব্যবস্থায় সিঙ্গাপুরে নীরব বিপ্লব
    শিক্ষাব্যবস্থায় সিঙ্গাপুরে নীরব বিপ্লব