• লেইটেস্ট

    বুধবার     ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯  

    সফলতা ও উন্নয়নে দরকার সঠিক তথ্য

    বি আওয়ার ফ্রেন্ডস

    এত সুযোগ থাকতে উচ্চশিক্ষার জন্য কেন কানাডা নয়?

    বিদেশে পড়াশোনা

    এত সুযোগ থাকতে উচ্চশিক্ষার জন্য কেন কানাডা নয়?

    প্লানেট ডেস্ক | ২৫ জুন ২০১৯ | ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ

    প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বহুজাতিক বৈচিত্র্য বিবেচনায় পৃথিবীতে কানাডার সমতুল্য দেশ আর একটিও নেই। বিশ্বের শিল্পোন্নত এই দেশটির রয়েছে বিশাল বনাঞ্চল, আকর্ষণীয় লেক ও সুউচ্চ বিশালাকৃতির পর্বতমালা। বহুজাতিক সংস্কৃতির দেশ কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে একটি দ্বিভাষী দেশ অর্থাৎ ইংরেজি ও ফরাসি এই দুটি ভাষা একইসঙ্গে দেশটির সরকারি ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে লক্ষণীয় হলো, আয়তনের দিক দিয়ে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হলেও জনসংখ্যা খুবই কম। যুক্তরাষ্ট্রের একটি রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়াতে যত জনসংখ্যা রয়েছে তার চেয়েও দেশটির জনসংখ্যা কম। অথচ আধুনিক জীবনযাপনের সবরকম সুযোগ-সুবিধা, নাগরিক নিরাপত্তা ও শিক্ষায় দেশটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে ঈর্ষণীয়। তাইতো উন্নত জীবন ও গুণগত শিক্ষা গ্রহণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা দেশটিতে ছুটে যাচ্ছে। কানাডার সরকারি তথ্যানুসারে, ২০১৬ সালে সাড়ে তিন লাখের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী দেশটিতে উচ্চশিক্ষা নিতে এসেছে। শিক্ষা সচেতন বাংলাদেশি ছেলেমেয়েরাও এ প্রবণতা থেকে পিছিয়ে নেই। দেশটিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী বাংলাদেশির সংখ্যা দিন দিন লক্ষণীয়ভাবে বাড়ছে।
    উচ্চশিক্ষার ধরন : আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি সম্পন্ন করার সময় একেক বিশ্ববিদ্যালয়ে একেক রকম হয়। তবে সাধারণত আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি শেষ করতে তিন বা চার বছর লাগে। আবার প্রদেশ বা ভূখন্ড ভেদেও ডিগ্রির সময়ের (লেনথ অব স্টাডি) পার্থক্য হয় কারণ বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রাদেশিক সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আর পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রির মেয়াদ প্রোগ্রাম বা ডিগ্রির ধরনের উপর নির্ভর করে। তবে সাধারণত পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি শেষ করতে এক থেকে তিন বছর লাগে।
    কানাডায় বিভিন্ন ধরনের উচ্চশিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ইউনিভার্সিটিগুলো আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি দেয় এবং গবেষণা চালায়। কমিউনিটি কলেজ এবং টেকনিক্যাল স্কুল, অ্যাপ্লাইড আর্টস বা অ্যাপ্লাইড সায়েন্স স্কুলগুলো সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা, ব্যাচেলর ও অন্যান্য ডিগ্রি প্রদান করে।

    ডাউনটাউন টরন্টোতে অবস্থিত ‘টরন্টো স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট’ (টিএসএম) বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি আদর্শ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে বিজনেস, হসপিটালিটি, বিগ ডেটা এবং একাউন্টিংয়ে একগুচ্ছ ডিপ্লোমা ও অন্যান্য সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম করার সুযোগ রয়েছে। ডিপ্লোমার প্রোগ্রামের মেয়াদ এক বছর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত। এসব ডিপ্লোমা সফলতার সঙ্গে সম্পন্নকারীরা টপ আপ করে এফিলিয়েটেড প্রতিষ্ঠানে সরাসরি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট করার সুযোগ পাবে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি থেকে এক বছরের ডিপ্লোমা করে এফিলিয়েটেড ইউনিভার্সিটিতে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে সরাসরি দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা শুরু করতে পারবে। একইভাবে দুই বছরের ডিপ্লোমা করে ইউনিভার্সিটিতে মাত্র এক বা দুই বছর পড়াশোনা করলেই স্নাতক ডিগ্রি লাভ করা যাবে। টিএসএম যেসব ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্স অফার করে সেগুলোর মেয়াদ ভিন্ন বলে টিউশন ফিও ভিন্ন ভিন্ন। যেমন এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্সের টিউশন ফি কোর্স ভেদে তিন লাখ থেকে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত। দুই বছরের ডিপ্লোমা কোর্সের টিউশন ফি ৮ লাখ টাকার বেশি। আর আট মাসের সার্টিফিকেট কোর্সের টিউশন ফি সোয়া তিন লাখ টাকা। সেইসঙ্গে রয়েছে বাসস্থান, খাবার খরচসহ জীবনযাপনের আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচাদি।
    ভর্তি সেশন : টরন্টো স্কুল অব ম্যানেজমেন্টে বছরজুড়েই কয়েকটি সেশনে (ইনটেক) শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম চলে। জানুয়ারি, মার্চ, মে, জুলাই, সেপ্টেম্বর এবং নভেম্বর এই ছয়টি সেশনে শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়া হয়। বর্তমানে জুলাই সেশনে ভর্তি কার্যক্রম চলছে। কানাডায় পড়তে আগ্রহীরা নিম্নোক্ত যোগ্যতা সাপেক্ষে বিভিন্ন প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ নিতে পারেন :
    শিক্ষাগত যোগ্যতা :
    ১. ডিপ্লোমা প্রোগ্রামের জন্য : এইচএসসি, দাখিল বা এ- লেভেল উত্তীর্ণ যেকোনো শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানটিতে ডিপ্লোমা প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে পারবে। এইচএসসি বা দাখিলের ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। আর এ- লেভেল উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ও-লেভেল ও এ-লেভেল মিলিয়ে আটটি বিষয়ে ন্যূনতম জিপিএ-সি থাকতে হবে। সেইসঙ্গে ও-লেভেল ও এ- লেভেলের প্রতিটিতে সর্বোচ্চ একটি বিষয়ে জিপিএ ‘ডি’ থাকলে আবেদন করা যাবে। অন্যান্য যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে আবেদনকারীর বয়স ন্যূনতম ১৭ বছর হতে হবে, দ্বাদশ শ্রেণির পর পড়াশোনায় বিরতি থাকলে তা ২ বছরের বেশি হওয়া যাবে না, আইইএলটিএস স্কোর ন্যূনতম ৬ হতে হবে তবে কোনো ব্যান্ডে স্কোর পাঁচের কম হওয়া যাবে না। আইইএলটিএসের বদলে পিটিই স্কোর ৬৪ বা সমতুল্য হতে হবে।
    ২. এডভান্স ডিপ্লোমা প্রোগ্রামের জন্য : ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে হবে ৩-৪ বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রি। বয়স ৩০ বছরের বেশি হওয়া যাবে না। আর আইইএলটিএস স্কোর ৬ থাকতে হবে তবে কোনো ব্যান্ডে স্কোর পাঁচের কম হওয়া যাবে না। পিটিই স্কোর ডিপ্লোমা প্রোগ্রামের সমতুল্য।
    ৩. এসিসিএ প্রোগ্রামের জন্য : কমপক্ষে ব্যাচেলর ডিগ্রির প্রথম বর্ষ শেষ হওয়া লাগবে, বয়স ৩০ বছরের বেশি হওয়া যাবে না। আর আইইএলটিএস স্কোর ৬ হতে হবে। তবে কোনো ব্যান্ডের স্কোর ৫ এর কম হওয়া যাবে না।

    কানাডায় উচ্চশিক্ষার সুবিধা : দেশটিতে উচ্চশিক্ষার অনেকগুলো সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি হলো পড়াশোনার পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীদের বৈধভাবে কাজের সুযোগ। স্টুডেন্ট ভিসা প্রদানের সময়ই ওয়ার্ক পারমিট দেয়া হয়। টার্ম চলাকালে শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা আর ছুটির সময় পূর্ণকালীন অর্থাৎ সপ্তাহে ৩০ ঘণ্টা কাজ করতে পারে। কলেজ, ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসেই কাজের পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করা যাবে কিনা তা স্টুডেন্ট ভিসাতেই উল্লেখ করা থাকে। দ্বিতীয়ত হলো পড়াশোনা শেষে (গ্র্যাজুয়েশন) চাকরি ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ। গ্র্যাজুয়েশনের পর বিদেশি শিক্ষার্থীরা প্রাথমিকভাবে দুই বছরের জন্য চাকরি করার সুযোগ পায়। প্রথম এক বছর কাজ শেষেই কানাডায় পারমানেন্ট রেসিডেন্সের (পিআর) জন্য আবেদন করা যায়। এছাড়া রয়েছে আরও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। এত সুবিধা যে দেশে রয়েছে সে দেশটি কেন আপনার উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হতে পারে না?
    খরচ : প্রাথমিকভাবে ৬ মাসের টিউশন ফি দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের বাছাইকৃত প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারবেন। আগেই উল্লেখ করেছি, কানাডায় পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করে আয়ের সুযোগ রয়েছে। তাই যোগ্যতা বিশেষ করে ইংরেজি ও অন্যান্য দক্ষতা থাকলে ভর্তির প্রথম এক বছরের পর আর কোন টাকা দেশ থেকে নিতে হবে না। কাজ করে যে আয় হবে তা নিয়ে টিউশন ও অন্যান্য খরচ চালানো যাবে। খরচ বাদে যে টাকা সেভ হবে তা দিয়ে পরবর্তীতে অর্নাস পড়া সম্পন্ন করা যাবে। এছাড়া গ্র্যাজুয়েশন শেষে প্রাথমিকভাবে দুই বছরের জন্য কাজের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে এক বছর কাজ শেষেই কানাডায় স্থায়ী বসবাসের (পিআর) জন্য আবেদন করা যাবে। অর্থাৎ সফলভাবে পড়াশোনা সম্পন্ন করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে দেশটির নাগরিকত্ব লাভের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। তাই উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডা কেন নয়?
    ভর্তি ও আবেদনের জন্য যোগাযোগ : টরন্টো স্কুল অব ম্যানেজমেন্টসহ কানাডার অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন : বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক, প্লট-২২, গুলশান সার্কেল-২, ঢাকা। ফোন ৯৮৬১৭৯০-৪, ০১৭২০৫৫৭১০২-১০৮, ০১৭২০৫৫৭১১৮/১২৩। প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে ভিজিট https://torontosom.ca

    Comments

    comments

  • আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
    শিক্ষাব্যবস্থায় সিঙ্গাপুরে নীরব বিপ্লব
    শিক্ষাব্যবস্থায় সিঙ্গাপুরে নীরব বিপ্লব