• লেইটেস্ট

    কামিং সুন

    রবিবার     ১৭ নভেম্বর, ২০১৯  

    সফলতা ও উন্নয়নে দরকার সঠিক তথ্য

    বি আওয়ার ফ্রেন্ডস

    কর্মস্থলে চাপমুক্ত থাকার ৫টি কার্যকর উপায়

    সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে কর্মস্থলে চাপে পড়াটা স্বাভাবিক। ছবি-সংগৃহীত

    কর্মস্থলে চাপমুক্ত থাকার ৫টি কার্যকর উপায়

    প্লানেট ডেস্ক | ২৯ অক্টোবর ২০১৯ | ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ

    কর্মস্থলে চাপ ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি এখন বেশ স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। প্রায়ই এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়াটাও যেন এক প্রকার নিত্যদিনের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সহকর্মী ও আপনার মধ্যকার বিদ্যমান প্রতিযোগিতা বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং কাজের পরিমাণের উপর এর মাত্রার তারতম্য নির্ভর করে। কর্মস্থলে এটা এড়িয়ে চলার কোনো উপায় নেই তবে এটাকে মোকাবেলার উপায় অবশ্যই আছে যেটা আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে। কর্মস্থলে নিজেকে চাপমুক্ত রাখার পাঁচটি পরীক্ষিত কার্যকর উপায়ের কথা টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে নিচে তুলে ধরা হলো :

    পরিকল্পনামাফিক দিনটা শুরু করুন : চাপ মোকাবেলায় একটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে দিন শুরু করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দিনের কাজ শুরু করার আগেই এদিন কী কী কাজ করতে হবে এ ব্যাপারে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। অবশ্য পরিকল্পনাই সম্পূর্ণ সমাধান নয়। কারণ দিনের কাজের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই নতুন কাজ যোগ হতে পারে বা কোনো একটা কাজের জন্য বরাদ্দ সময় পেরিয়েও সেটি করা লাগতে পারে। আর এখানেই কর্মপরিকল্পনা বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। পরিকল্পনামাফিক কাজ করতে পারলে নিশ্চিতভাবেই হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকবে। বেঁচে যাওয়া সময় অন্য কাজে লাগাতে পারবেন। এ অবস্থায় আকস্মিক অতিরিক্ত কাজ এবং চাপ আসলেও নিজেকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সহজে সামলে নিতে পারবেন। তাই দিনের একটা নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা অবশ্যই গুরুত্ব বহন করে।

    সময় ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে : অনেকেই কাজ পরের দিন বা পরবর্তী সময়ের জন্য ফেলে রাখেন। কিন্তু তারা হয়তো জানেন না যে ঝুলিয়ে রাখা এবং অতিরিক্ত কাজ থেকেই সাধারণত চাপ তৈরি হয়। তাই সময় ব্যবস্থাপনাই হচ্ছে এটা এড়ানোর সেরা উপায়। নিজের দৈনন্দিন অগ্রাধিকারগুলোর তালিকা করুন এবং সম্ভাব্য নিকটতম সময়ের মধ্যে সেগুলো শেষ করুন। কারো কারো মাঝে অফিসের কাজ বাসায় নিয়ে করার প্রবণতা দেখা যায়। এটি থেকে বিরত থাকতে হবে কারণ এই (বদ) অভ্যাস কেবল মানসিক স্বাস্থ্যের উপর চাপই ফেলে না বরং এতে পারিবারিক জীবনও বিঘ্নিত হয়। তাই অফিসের সময়ের পুরোটা অন্য কোনো কিছু নয় বরং অফিসের জন্যই বরাদ্দ রাখুন।

    যখনই অস্পষ্টতা তখনই প্রশ্ন করুন : অফিসে নবাগত হলে সেখানকার অনেক বিষয়ে আপনার জ্ঞান না থাকাই স্বাভাবিক। এ অবস্থায় কাজ করতে গিয়ে যখনই অফিসের কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা বা সন্দেহ জাগবে তখনই দ্বিধা না করে সহকর্মীদের জিজ্ঞাসা করুন। আমরা অনেক সময়ই বেশি প্রশ্ন করতে গিয়ে ইতস্তত বোধ করি বা প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকি। এটি একদমই ঠিক না কারণ মনে রাখবেন প্রশ্নের মাধ্যমেই অফিস সম্পর্কে আপনার গভীর জ্ঞান বা ধারণা তৈরি হবে। তাই কোনো বিষয় শুধু নিজের কাছে না রেখে সহকর্মীদের যত বেশি সম্ভব প্রশ্ন করুন, তাদের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করুন এবং সব ধরনের সন্দেহ বা অস্পষ্টতা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন।

    সহকর্মী ও বসের সঙ্গে সঠিক দূরত্ব বজায় রাখুন : কর্মস্থলে কাজের ঠিক পরের বড় ‘বিষয়’ হচ্ছে আপনার সহকর্মীরা। তারা আপনার সুখের মাধ্যম হতে পারে একইসঙ্গে তারা আবার চাপের ভান্ডারও হতে পারে। সহকর্মীরা ভালো বা খারাপ হোক, তাদের সঙ্গে সঠিক পরিমাণ দূরত্ব বজায় রাখাটা সবর্দাই জরুরি। তাদের খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে গেলে করতে চাচ্ছেন না এমন কোনো কিছুও তাদের জন্য করার তাড়া বা বাধ্যবাধকতা অনুভব করতে পারেন যা আপনার জন্য আরও চাপ তৈরি করবে। একইভাবে সহকর্মীদের এড়িয়ে চলাও ঠিক না কারণ এমন অভ্যাস আপনার জন্য শুধু সমস্যাই তৈরি করবে। কর্মস্থলে সহকর্মীদের এড়িয়ে চলা আপনার মাঝে একাকিত্ব বা পরিত্যক্ত বোধ জাগাতে পারে যা আপনাকে অসুখী ও অস্থির করতে পারে। তাই সহকর্মীদের এড়িয়ে না চলে তাদের সঙ্গে সঠিক দূরত্ব বজায় রেখে চলুন।

    বিরতি নিয়ে কোথাও ঘুরে আসুন : একটা কথা মনে রাখতে হবে, জীবন মানেই শুধু কাজ নয়। জীবনকে উপভোগ এবং কাজে উদ্যম ফিরে পাবার জন্য বিনোদন, অবসরযাপনেরও দরকার রয়েছে। একটানা অনেকদিন কাজ মানুষকে একঘেঁয়ে, নিরামিষ করে তুলে এবং তাদের কার্যক্ষমতা হ্রাস করে। তাই যখনই মনে হবে কাজে আপনার বিরক্তবোধ হচ্ছে, নিজের উদ্যমতা হারিয়ে ফেলেছেন তখনই ছুটি নিয়ে দূরে বা কাছে কোথাও ঘুরে আসুন। এতে শরীর ও মন দুটোই চাঙ্গা হবে এবং নিজের কর্মচাঞ্চল্য আবার ফিরে পাবেন যা প্রকারান্তরে আপনার কর্মকক্ষতাই বাড়িয়ে দেবে। তাই ছুটিতে পরিবার বা বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে ঘুরুন, জীবনটাকে উপভোগ করুন। এতে নিজের ও অফিসের উভয়েরই লাভ।

    সবশেষ, মোদ্দাকথা হলো সঠিক পরিকল্পনা। কাজ ও জীবনযাপনের ধরন বিবেচনায় একটি যথাযথ কর্মপরিকল্পনা থাকলে কর্ম ও ব্যক্তিগত জীবন উভয়ই চাপমুক্ত রেখে যাপন করা সম্ভব। তাই চাপ ও উদ্বেগবিহীন জীবনযাপনের জন্য উপরোক্ত পাঁচটি উপায় ট্রাই করেই দেখুন। সেইসঙ্গে এটাও মনে রাখতে হবে, চাপ ও তাড়া জীবনযাপনেরই একটি অংশ।

    Comments

    comments

  • আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
    জাতিসংঘে শিক্ষানবিশ
    জাতিসংঘে শিক্ষানবিশ